1. nasiralam4998@gmail.com : admi2017 :
রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

চাকরি হারানোর শঙ্কায় কেরুর ২৩২ শ্রমিক-কর্মচারী

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৮৯ বার
শঙ্কায় কেরুর ২৩২ শ্রমিক-কর্মচারী
ফাইল ফটো

স্টাফ রিপোর্টার : চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের চাকরি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। অন্য মিল থেকে স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীরা এ মিলে যোগদান করায় চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারীরা চাকরি হারাতে পারেন। যে কোন সময় মিল এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে অত্র অঞ্চলের আখচাষী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন।

জানা যায়, ১৯৩৮ সালে দর্শনায় নির্মিত হয়েছিল কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনিকল। প্রতি বছর সরকারের কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েও লাভ করে আসছে দেশের অন্যতম ভারীশিল্প প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র ও অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে সুনামের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ৮৩ বছর বয়সী পুরাতন কেরু চিনিকল। মিলটি প্রতিষ্ঠার পর ‘নো লাভ নো প্রফিট’ এর ভিত্তিতে চলে আসছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেরু চিনিকলটি জাতিয়করণ করেন। তারপর থেকে আখচাষ ও উৎপাদন আরো বাড়তে থাকে।

কিন্তু ২০০০ সালের পর অজ্ঞাত কারণেই শ্রমিক ও কর্মচারী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তাদের অবসর বন্ধ থাকেনি। ফলে পদ শূন্য হতে থাকে। মিলের কাজ চালিয়ে নিতে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন পর্যায়ক্রমে প্রায় ২শ ৩২ জনকে চুক্তিভিত্তিক শূন্য পদে লোকবল নিয়োগ করে।

যে কোন সময় স্থায়ী নিয়োগ হবে এমন আশায় বুক বেধে ২০/২১ বছর ধরে অল্প টাকায় চুক্তিভিত্তিক হিসেবে কাজ করে আসছিল তারা। কিন্তু দেশের যেসব চিনিকলে মাড়াই বন্ধ বা স্থগিত করা হয়েছে সেসব শ্রমিক ও কর্মচারীরা কেরু চিনিকলে এসে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ও কর্মচারীর স্থলে যোগদান করছেন।

কেরুর সংস্থাপন অফিস জানায়, কেরু চিনিকলে নতুন করে প্রায় আড়াইশ শ্রমিক ও কর্মচারী স্থায়ীভাবে যোগদান করার কথা। বুধবার পর্যন্ত ১০২ জন যোগদান করেছেন।

এ বিষয়ে কেরু চিনিকল আখচাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান, সহ-সভাপতি ওমর আলী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী জানান, ২০/২২ বছর ধরে এ মিলে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারী কাজে বহাল রয়েছে। তাদের বাদ দিয়ে অন্য মিলের লোকজন নেওয়া হলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে, আখচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চিনিকলের কেন্দ্রীয় শ্রমিক ও কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মাসুদুর রহমান জানান, চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন শ্রমিক-কর্মচারীর সমস্যা না হয়। মিলের জিএম (প্রশাসন) শেখ সাহাব উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে অন্য চিনিকলের ১০২ জন শ্রমিক-কর্মচারী যোগদান করেছেন, বাকিদের যোগদান প্রক্রিয়াধীন।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের এড়িয়ে অন্য মিলের স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগের বিষয়ে কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু সাইদ বলেন, ‘বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নতুন এ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে’। তিনি আরও জানান, পুরনো চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো দিক-নির্দেশনা দেয়নি মন্ত্রণালয়।

দর্শনা নিউজ 24/এইচ জেড

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..