1. nasiralam4998@gmail.com : admi2017 :
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

এসএমই উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৬৯ বার

স্মার্ট অথনীতি বিনির্মাণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার।

শনিবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে ডিসিসিআই আয়োজিত ‘স্মার্ট এসএমইদের জন্য তথ্য-প্রযুক্তি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক প্রাক্তন মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মুহ. মাহবুবর রহমান।

সেমিনারের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, দেশের এসএমইদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো, সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভবিষ্যতে স্মার্ট অর্থনীতিতে রূপান্তরে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাকে বেগবান করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে স্থানীয় এসএমইরা গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা পালন করছেন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, আমাদের ৯ মিলিয়ন এসএমই উদ্যোক্তা কৃষি, পণ্য উৎপাদনসহ ব্যবসায়ের বিভিন্ন খাতে প্রায় ২৪.৫ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে এবং জিডিপিতে তাদের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ।

এসএমইদের প্রযুক্তি বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি, তথ্য-প্রযুক্তি গ্রহণে স্বল্প সুদে পুনঃঅর্থায়ন সহায়তা, ফিনটেক ব্যবস্থার সর্বাত্মক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, টেকনোলজি ট্রান্সফার, কর ও শুল্কবিষয়ক সহায়তা প্রদান, নীতি সহায়তা প্রভৃতি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমাণে স্মার্ট সরকারের পাশাপাশি স্মার্ট ইকোনোমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সংস্থাগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে জনগণের ভোগান্তি ও ব্যয় কমবে এবং সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। এসএমই খাতে যথাযথ তথ্য প্রাপ্তির বিষয়টি এ খাতের সম্প্রসারণে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের একান্ত অপরিহার্য।

তিনি বলেন, এসএমই উদ্যোক্তারা আমাদের অর্থনীতি ও জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি হারে অবদান রাখছে। তাই, তাদের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাথাপিছু আয়, জ্বালানি সক্ষমতাসহ অন্যান্য সূচকে আমাদের উন্নয়ন হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বেসরকারি খাত।

তিনি বলেন, আমাদের এসএমই উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি সাহসী এবং নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের তথ্য-প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়ানো গেলে অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। প্রযুক্তি গ্রহণে আমাদের ভয়-ভীতি দূর করতে হবে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মুহ. মাহবুবর রহমান বলেন, সারা দেশে আমাদের ৮৫টি কার্যালয় ও প্রায় ১০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম আছে, যেখান থেকে এসএমই উদ্যোক্তাদের ৫ শতাংশ হারে ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়। আমাদের এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে বিসিক নানা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে জিবিএল ফিনটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট’ এবং ‘গ্লোবাল ইনোভেশন’ সূচকে বাংলাদেশ যথাক্রমে ৮৪ ও ১০৫তম স্থানে আছে। তাই, এ ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান উন্নয়নের বিকল্প নেই। প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার, আর্থিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা এবং দক্ষতার অভাব আমাদের এসএমই খাতের উন্নয়নে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা।

এসএমই খাতে প্রযুক্তিবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

মো. সাইফুর রহমান বলেন, উচ্চ কর ও শুল্ক হার, টেকনোলোজিতে পিছিয়ে থাকা, সক্ষমতার অভাব, প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের উচ্চ মূল্য, তথ্য সুরক্ষা, সাইবার সিকিউরিটি এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রভৃতি বিষয় আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ‘স্মার্ট এসএমই’ তে রূপান্তরের লক্ষ্যে নীতিমালার সংস্কার ও সহায়ক নতুন নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

এসএমইদের সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা প্রাপ্তির পরিবেশ উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার প্রস্তাব করেন তিনি।

সেমিনারের নির্ধারিত আলোচনায় সেবা প্ল্যাটফর্ম লিমিটেডের কো-ফাউন্ডার ইলমুল হক সজীব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলোজির অধ্যাপক ড. বি মাইনুল হাসান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক বক্তব্য দেন।

ইলমুল হক সজীব বলেন, আামাদের এসএমইদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হয়েছে। এ অবস্থায় ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে অংশগ্রহণ বাড়াতে এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদোগ নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাইনুল হোসেন বলেন, পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে আমরা অনেক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি না। বিশেষ করে, এসএমইদের সার্বিক উন্নয়নে এ খাতে একটি ডাটাবেজ একান্ত আবশ্যক।

তিনি বলেন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ ভালো করেছে। দেশে ই-কমার্স খাতের আরও বিকাশে ‘ক্রস-বর্ডার ট্রেড’ সম্প্রসারণ করতে হবে।

সারা দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা বাস্তবায়নে গুরুত্ব আরোপ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মেসবাহ উল হক। সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগুলোর সর্বাত্মক ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জাহিদ ইকবাল বলেন, এসএমই খাতে প্রযুক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৯০০ কোটি টাকার একটি ফান্ড আছে। শুধু প্রডাক্ট, সার্ভিস, প্রসেস এবং টেকনোলজি প্রভৃতি খাতে নতুনত্ব নিয়ে আসতে পারলে মাত্র ৪ শতাংশ হারে এ ফান্ড থেকে ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে।

সেমিনারে বক্তারা এসএমইদের ঋণের সুদের হার কমানো ও ঋণ প্রাপ্তির শর্তাবলী সহজ করা, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, এসএমই বিষয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন এবং কর ও শুল্কবিষয়ক সহায়ক নীতিমালা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..