1. nasiralam4998@gmail.com : admi2017 :
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:০২ অপরাহ্ন

বিএনপি সৃষ্টি নয়, ধ্বংস করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৩
  • ২০ বার

দেশব্যাপী সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ‘চোখে না দেখা’র জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতাদের ‘মনের অন্ধকার’ রয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা সৃষ্টি নয়, ধ্বংস করতে পারে।

শনিবার (১১ নভেম্বর) কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির নাশকতামুলক কর্মকান্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল উন্নয়ন দেখে না। চোখ থাকতে যারা অন্ধ তাদের কি বলার আছে। আমি ঢাকায় উন্নত চোখের ইনস্টিটিউট করেছি। সেখানে চোখের চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, এটা চোখের দোষ না মনের দোষ। আজকে যারা বিভিন্ন জায়গায় আগুন দিচ্ছে, এতো বীভৎস কাজ করতে পারে! যাত্রীবাহী পরিবহনে আগুন দিতে পারে। এই ধরনের দুর্বৃত্তায়ন আমরা দেখেছি। তাদের চোখে না, মনেই অন্ধকার। কাজেই এদের ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকতে হবে। এরা সৃষ্টি করতে পারে না, ধ্বংস করতে পারে। মানুষকে পুড়িয়ে মারে, এটা সহ্য করা যায় না।

হাসিনা বলেন, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্বাক্ষরতার হার বাড়াই, রেল স্কুল-কলেজ সবই করেছি। যমুনা নদীর ওপর সড়কের সাথে রেল সংযোগ করে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ নির্বিঘ্ন করেছি। মাত্র পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিলাম সব ধরনর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছিলাম।

বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনগুলো ধ্বংস করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, ক্ষমতার লোভে দেশের সম্পদ কারো হাতে তুলে দিতে আমি রাজি না। যে কারণে ২০০১ সালে আমি ক্ষমতায় আসতে পারি নাই। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানায়। মানুষের জীবনমানে ধস নামে। দুঃশাসন ও দুর্নীতির কারণে ইমার্জেন্সি ঘোষণা হয়। এরপর ২ বছর অন্ধকার যুগ। ২০০৮ সালে নির্বাচনে আমরা জয়ী হই। তারা আমদানি নির্ভর ছিলো। আমাদের লক্ষ্য ছিলো নিজের পায়ে দাঁড়াবো, কারো কাছে হাত পাতবো না।

‘লাভজনক না’ সেই কারণ দেখিয়ে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো রেল প্রকল্প হাতে নিতে নিরুৎসাহিত করেছিলো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি লাভজনকের চেয়ে জনসাধারণের সেবাটা দেওয়া এবং তাদের কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিলেন। কারণ রেলে সাধারণ মানুষ চলাফেরা করে। পরে রেল লাভজনক দেখে সেই সংস্থাগুলোই নতুন রেল প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহ দেখায় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজারে রেলে আসাটা মানুষের কাছে আকাঙ্ক্ষা ছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার, সুন্দরবন থেকে কক্সবাজার, পদ্মা পাড় থেকে কক্সবাজার, অর্থাৎ সারা দেশ থেকে যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে কক্সবাজার আসতে যারে সেজন্য সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

আগামী ২-৩ বছরের রেলে যাত্রী সেবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও জানান সরকারপ্রধান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা দিয়েছিলাম। কথা রাখলাম। আজকের দিনটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা গর্বের দিন।’

তিনি বলেন, কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম ও বিরল সমুদ্র সৈকত। সাধারণত এই ধরনের সমুদ্র সৈকত এবং বালুকাময় সমুদ্র সৈকত আর নেই। এখানে রেল সংযোগ করতে পেরে আমি আনন্দিত। এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটা দাবি ছিলো, সেটা পুরণ হলো।’

কক্সবাজারে সঙ্গে নিজের পরিবারের অনেক স্মৃতি রয়েছে জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বাবা বেশিরভাগ সময় কারাগারে থাকতেন। যখনই সুযোগ পেতেন আমাদের শীতের দিকে কক্সবাজার নিয়ে আসতেন।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে দেশে ফিরে আসার কথা জনিয়ে তার কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ওই সময়ে বিচার চাইতে পারিনি। ইনডেমনিটি জারি করে বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়েছিলো। যুদ্ধপরাধীদের মন্ত্রী-এমপি বনিয়েছে জিয়াউর রহমান।

এই রেল সংযোগের মাধ্যমেযোগাযোগ ব্যবস্থায় আরো একটি মাইলফলক স্পর্শ করলো আওয়ামী লীগ সরকার। এতে পর্যটনের শহর কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০০ কিলোমিটারের এই রেলপথ চালু হলে পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। কম খরচে বিলাসবহুল ট্রেনে চড়ে পর্যটকেরা বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেখার সুযোগ পাবেন। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রকল্প সহায়তা দিচ্ছে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা এবং বাকি ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে।

এ রেলপথ নির্মাণের আগে কক্সবাজারের সঙ্গে কোনো রেল যোগাযোগই ছিল না। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ হয়েছে। প্রকল্পের জন্য দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার অংশে কক্সবাজার জেলায় ১ হাজার ৩৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে ৯টি রেলওয়ে স্টেশন, চারটি বড় ও ৪৭টি ছোট সেতু, ১৪৯টি বক্স কালভার্ট এবং ৫২টি রাউন্ড কালভার্ট।

দোহাজারি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ১০টি স্টেশন। এগুলো হলো- কক্সবাজার, রামু, ইসলামাবাদ, ডুলাহাজারা, চকরিয়া, হারবাং, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও দোহাজারী।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..